ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চাঁদাবাজি মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ: অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ

  • মোহাম্মদ নাসিম
  • আপডেট সময় ১০:৩০:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার পেছনে চাঁদাবাজি অন্যতম বড় কারণ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আগে যারা চাঁদাবাজি করতো, তারা তো আছেই। পাশাপাশি যারা এখন রাজনীতিতে জায়গা দখলের চেষ্টা করছে, তারাও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের চাঁদাবাজির প্রবণতাও বাড়ছে।”

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত কয়েক বছরে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ, বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স কমে যাওয়া, সরবরাহ চেইনের ভেঙে পড়া এবং চাঁদাবাজির কারণে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি কমেনি। মহাস্থানগড় থেকে ঢাকায় একটি ট্রাক আসতে ৫ হাজার টাকা ভাড়া লাগার কথা, কিন্তু চাঁদাবাজির কারণে সেটি ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। এর প্রভাব সরাসরি বাজারের ওপর পড়ছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তো নির্বাচিত সরকার নই, আমাদের রাজনৈতিক কর্মী নেই, প্রশাসনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াও কঠিন। রাজনৈতিক সরকার থাকলে মাঠপর্যায়ে তারা তাদের লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে আনার চেষ্টা করছি, তবে একেবারে ৫-৬ শতাংশে নামিয়ে আনা কঠিন।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে জনগণকে সচেতন হতে হবে, তবেই বাজার পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Md. Nasim

শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই নির্ধারণ করবে AI যুগের চাকরির ভবিষ্যৎ।

চাঁদাবাজি মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ: অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ

আপডেট সময় ১০:৩০:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার পেছনে চাঁদাবাজি অন্যতম বড় কারণ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আগে যারা চাঁদাবাজি করতো, তারা তো আছেই। পাশাপাশি যারা এখন রাজনীতিতে জায়গা দখলের চেষ্টা করছে, তারাও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের চাঁদাবাজির প্রবণতাও বাড়ছে।”

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত কয়েক বছরে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ, বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স কমে যাওয়া, সরবরাহ চেইনের ভেঙে পড়া এবং চাঁদাবাজির কারণে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি কমেনি। মহাস্থানগড় থেকে ঢাকায় একটি ট্রাক আসতে ৫ হাজার টাকা ভাড়া লাগার কথা, কিন্তু চাঁদাবাজির কারণে সেটি ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। এর প্রভাব সরাসরি বাজারের ওপর পড়ছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তো নির্বাচিত সরকার নই, আমাদের রাজনৈতিক কর্মী নেই, প্রশাসনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াও কঠিন। রাজনৈতিক সরকার থাকলে মাঠপর্যায়ে তারা তাদের লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে আনার চেষ্টা করছি, তবে একেবারে ৫-৬ শতাংশে নামিয়ে আনা কঠিন।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে জনগণকে সচেতন হতে হবে, তবেই বাজার পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।