ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শনির আখড়ায় মশা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অবহেলা অব্যাহত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি বেকার তৈরির কারখানা? বাংলাদেশের ৩০-৪০% প্রতিষ্ঠান ভুল আইটি ব্যবস্থাপনায় ও সাইবার ঝুঁকিতে নিমজ্জিত! শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই নির্ধারণ করবে AI যুগের চাকরির ভবিষ্যৎ। সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঢাকায় আরও ২০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকটের আশঙ্কা মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা শাহাদাত বরণ করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকটের আশঙ্কা

  • Md Nasim
  • আপডেট সময় ০২:০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী ও QatarEnergy-এর প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব পড়বে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে, পাশাপাশি হিটিং, খাদ্যপণ্য ও আমদানিকৃত পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রের কাছাকাছি সামরিক হামলার কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ যদি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

এর ফলে চীন, ভারত ও জাপান-এর মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো, যারা এই রুটের ওপর নির্ভরশীল, তারা বড় জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Rystad Energy-এর বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘বাস্তব ঝুঁকি’। তার মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা Competition and Markets Authority এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক Ofgem পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Energy Aspects-এর প্রতিষ্ঠাতা অম্রিতা সেন বলেন, অনেক ব্যবসায়ী প্রথমে ধারণা করেছিলেন সংঘাত দ্রুত শেষ হবে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। তার মতে, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ এখন সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আবার স্থায়ীভাবে তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Md. Nasim

জনপ্রিয় সংবাদ

শনির আখড়ায় মশা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অবহেলা অব্যাহত।

যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকটের আশঙ্কা

আপডেট সময় ০২:০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী ও QatarEnergy-এর প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব পড়বে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে, পাশাপাশি হিটিং, খাদ্যপণ্য ও আমদানিকৃত পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রের কাছাকাছি সামরিক হামলার কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ যদি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

এর ফলে চীন, ভারত ও জাপান-এর মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো, যারা এই রুটের ওপর নির্ভরশীল, তারা বড় জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Rystad Energy-এর বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘বাস্তব ঝুঁকি’। তার মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা Competition and Markets Authority এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক Ofgem পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Energy Aspects-এর প্রতিষ্ঠাতা অম্রিতা সেন বলেন, অনেক ব্যবসায়ী প্রথমে ধারণা করেছিলেন সংঘাত দ্রুত শেষ হবে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। তার মতে, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ এখন সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আবার স্থায়ীভাবে তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে।