ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩–৬ মাসে একবার স্প্রে, ছবি–ভিডিও দেখিয়ে ‘নিয়মিত কার্যক্রমের’ দাবি

শনির আখড়ায় মশা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অবহেলা অব্যাহত।

ঢাকার পলাশপুর, পূর্ব দনিয়া এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মশা নিধন কার্যক্রমে নিয়মিত কাজ না করে এক ধরনের “বিড়াল–ইঁদুর খেলা” খেলছে।

স্থানীয়দের মতে, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি প্রভাতের পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকদিন মশা নিধন ওষুধ ছেটানো হয়েছিল। কিন্তু সেই কয়েকদিনের পর আবার সবকিছু আগের মতোই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর নিয়মিতভাবে ওষুধ ছিটানোর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

পলাশপুর, পূর্ব ডোনিয়ার বাসিন্দারা জানান, যখন তারা সিটি কর্পোরেশনে ফোন করেন, তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব এড়াতে একে অপরের কাছে বিষয়টি ঠেলে দেন। অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ফোনই ধরেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সিটি কর্পোরেশন সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাসে একবার মশা নিধন ওষুধ ছেটায়। সেই সময় তারা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরে যখন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, তখন সেই ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তারা দাবি করে যে এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর হয়েছে।

আমাদের প্রতিবেদক পলাশপুর, পূর্ব ডোনিয়া এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানতে পারেন, বাস্তবে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে না। বরং কয়েক মাস পরপর একবার ওষুধ ছেটানো হয়, যা মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়।

এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও যথাযথ উদ্যোগ নেই। অনেক সময় রাস্তার ময়লা পরিস্কার করার পরিবর্তে শুধু ঝাড়ু দেওয়া হয়, ফলে ময়লা ও নোংরা জমে থাকে এবং মশার বংশবিস্তার বাড়ে।

ফলে এলাকাটির প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে ভুগছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম এবং সড়ক পরিষ্কারের জন্য সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

৩–৬ মাসে একবার স্প্রে, ছবি–ভিডিও দেখিয়ে ‘নিয়মিত কার্যক্রমের’ দাবি

শনির আখড়ায় মশা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অবহেলা অব্যাহত।

আপডেট সময় ০৪:৫০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ঢাকার পলাশপুর, পূর্ব দনিয়া এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মশা নিধন কার্যক্রমে নিয়মিত কাজ না করে এক ধরনের “বিড়াল–ইঁদুর খেলা” খেলছে।

স্থানীয়দের মতে, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি প্রভাতের পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকদিন মশা নিধন ওষুধ ছেটানো হয়েছিল। কিন্তু সেই কয়েকদিনের পর আবার সবকিছু আগের মতোই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর নিয়মিতভাবে ওষুধ ছিটানোর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

পলাশপুর, পূর্ব ডোনিয়ার বাসিন্দারা জানান, যখন তারা সিটি কর্পোরেশনে ফোন করেন, তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব এড়াতে একে অপরের কাছে বিষয়টি ঠেলে দেন। অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ফোনই ধরেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সিটি কর্পোরেশন সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাসে একবার মশা নিধন ওষুধ ছেটায়। সেই সময় তারা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরে যখন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, তখন সেই ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তারা দাবি করে যে এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর হয়েছে।

আমাদের প্রতিবেদক পলাশপুর, পূর্ব ডোনিয়া এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানতে পারেন, বাস্তবে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে না। বরং কয়েক মাস পরপর একবার ওষুধ ছেটানো হয়, যা মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়।

এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও যথাযথ উদ্যোগ নেই। অনেক সময় রাস্তার ময়লা পরিস্কার করার পরিবর্তে শুধু ঝাড়ু দেওয়া হয়, ফলে ময়লা ও নোংরা জমে থাকে এবং মশার বংশবিস্তার বাড়ে।

ফলে এলাকাটির প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে ভুগছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম এবং সড়ক পরিষ্কারের জন্য সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছেন।