ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি বেকার তৈরির কারখানা? বাংলাদেশের ৩০-৪০% প্রতিষ্ঠান ভুল আইটি ব্যবস্থাপনায় ও সাইবার ঝুঁকিতে নিমজ্জিত! শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই নির্ধারণ করবে AI যুগের চাকরির ভবিষ্যৎ। সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ শনির আখড়ায় মশা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অবহেলা অব্যাহত। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঢাকায় আরও ২০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকটের আশঙ্কা মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা শাহাদাত বরণ করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য: উদাসীনতা, ভ্রান্ত ধারণা ও সচেতনতার চিত্র

  • মোহাম্মদ নাসিম
  • আপডেট সময় ০৪:৩০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীনতা নতুন কিছু নয়। এখনো সমাজে মানসিক রোগ নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারণা, ভুল বিশ্বাস এবং অসচেতনতা দেখা যায়। মানসিক সমস্যাকে কেউ কেউ ‘পাগল’, ‘উদ্ভট’ বা ‘বিকৃত মানসিকতার’ সঙ্গে তুলনা করেন, যা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এমনকি যারা মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যান, তাদের নিজেদের মধ্যেও এক ধরনের ‘স্টিগমা’ কাজ করে। ফলে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে চান না বা দেরি করে থাকেন।

১৮ শতাংশ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮ সালের এক গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে ১৮ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন।

এর মধ্যে চিকিৎসক ও মনোবিদদের মতে, মাত্র এক শতাংশ মানুষ জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মানুষ মানসিক সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছে যাচ্ছেন।

ভ্রান্ত ধারণা এখনো বড় বাধা

বেশিরভাগ মানুষ এখনো মনে করেন, মানসিক সমস্যা এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। ফলে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। তবে সমস্যা শারীরিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দিলে তখনই বেশিরভাগ মানুষ চিকিৎসকের কাছে যান।

কোন কোন সমস্যায় চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন মানুষ?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত যেসব কারণে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন—

অবসাদ ও উদ্বেগ – অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।
ঘুমের সমস্যা – অনিদ্রা বা অতিরিক্ত ঘুমানো, দুঃস্বপ্নের সমস্যা নিয়েও অনেকে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন।
আচরণগত সমস্যা – আচরণগত পরিবর্তন, অস্বাভাবিক রাগ, একাকিত্ব বা হিংস্রতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়।
ড্রাগ আসক্তি – মাদক সেবনের ফলে সৃষ্ট মানসিক সমস্যা নিয়েও অনেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
শিশুদের মনোবিকাশজনিত সমস্যা – শিশুদের অতিরিক্ত ভয়, দুশ্চিন্তা, অটিজম বা অন্যান্য মানসিক বিকাশজনিত সমস্যায় অনেক অভিভাবক চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. মেখলা সরকার বলেন, “মানসিক সমস্যা হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। দেরি করলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্যকে শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা আরও বাড়ানো গেলে এবং ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করা গেলে মানুষ আরও সহজেই চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Md. Nasim

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি বেকার তৈরির কারখানা?

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য: উদাসীনতা, ভ্রান্ত ধারণা ও সচেতনতার চিত্র

আপডেট সময় ০৪:৩০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীনতা নতুন কিছু নয়। এখনো সমাজে মানসিক রোগ নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারণা, ভুল বিশ্বাস এবং অসচেতনতা দেখা যায়। মানসিক সমস্যাকে কেউ কেউ ‘পাগল’, ‘উদ্ভট’ বা ‘বিকৃত মানসিকতার’ সঙ্গে তুলনা করেন, যা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এমনকি যারা মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যান, তাদের নিজেদের মধ্যেও এক ধরনের ‘স্টিগমা’ কাজ করে। ফলে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে চান না বা দেরি করে থাকেন।

১৮ শতাংশ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮ সালের এক গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে ১৮ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন।

এর মধ্যে চিকিৎসক ও মনোবিদদের মতে, মাত্র এক শতাংশ মানুষ জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মানুষ মানসিক সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছে যাচ্ছেন।

ভ্রান্ত ধারণা এখনো বড় বাধা

বেশিরভাগ মানুষ এখনো মনে করেন, মানসিক সমস্যা এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। ফলে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। তবে সমস্যা শারীরিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দিলে তখনই বেশিরভাগ মানুষ চিকিৎসকের কাছে যান।

কোন কোন সমস্যায় চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন মানুষ?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত যেসব কারণে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন—

অবসাদ ও উদ্বেগ – অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।
ঘুমের সমস্যা – অনিদ্রা বা অতিরিক্ত ঘুমানো, দুঃস্বপ্নের সমস্যা নিয়েও অনেকে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন।
আচরণগত সমস্যা – আচরণগত পরিবর্তন, অস্বাভাবিক রাগ, একাকিত্ব বা হিংস্রতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়।
ড্রাগ আসক্তি – মাদক সেবনের ফলে সৃষ্ট মানসিক সমস্যা নিয়েও অনেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
শিশুদের মনোবিকাশজনিত সমস্যা – শিশুদের অতিরিক্ত ভয়, দুশ্চিন্তা, অটিজম বা অন্যান্য মানসিক বিকাশজনিত সমস্যায় অনেক অভিভাবক চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. মেখলা সরকার বলেন, “মানসিক সমস্যা হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। দেরি করলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্যকে শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা আরও বাড়ানো গেলে এবং ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করা গেলে মানুষ আরও সহজেই চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হবেন।