শীতকাল ও বসন্তকালে শিশুদের মধ্যে হাম (Measles) সংক্রমণের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের জন্য গুরুতর শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে এই রোগের ভয়াবহতা কমানো সম্ভব।
হামের লক্ষণ ও সংক্রমণ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম হলে সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। আক্রান্ত শিশুদের খাবারে অরুচি হয় এবং তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। হামের ভাইরাস মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা সহজেই একজন থেকে অন্যজনের দেহে সংক্রমিত হয়।
হাম হলে করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম হলে প্রথমেই শিশুকে বিশ্রামে রাখতে হবে এবং তার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জ্বর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো জরুরি, যাতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
হাম হলে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এটি শিশুদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করে এবং হামের কারণে হতে পারে এমন জটিলতা কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া, শিশুর চোখ লাল হয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে এবং সরাসরি আলো থেকে দূরে রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত টিকা নেওয়া। সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে শিশুদের হাম-রুবেলা (MR) টিকা দেওয়া হয়, যা এই রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে।
এছাড়া, হাম হলে শিশুকে আলাদা রাখা, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্যাম্পেইনের আহ্বান
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা জনসাধারণকে সচেতন করতে নিয়মিত হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শিশুকে হাম থেকে বাঁচাতে অবশ্যই সময়মতো টিকা দিতে হবে এবং যদি কোনো শিশু আক্রান্ত হয়, তবে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।”
হাম হলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করলে এই রোগের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
মোহাম্মদ নাসিম 















