শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের শাখার ২৯ নেতা-কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃতদের মধ্যে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদির স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশে জানানো হয়, গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট বৈঠকের সিদ্ধান্তে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাচাইপূর্বক অধিকতর শাস্তির বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের তালিকা
বহিষ্কৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—
- নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. আসিফুল ইসলাম, ২০২০-২১ সেশনের ইলিয়াস সানী ও মো. আকাশ আহমেদ।
- পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী শিমুল মিয়া।
- বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের মোজিদুল হক এবং ২০১৭-১৮ সেশনের ইউসুফ হোসেন টিটু।
- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান এবং ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ও সাধারণ সম্পাদক সজীবুর রহমান।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সজীবুর রহমান রুদ্র সেন হত্যা মামলার আসামি। বর্তমানে তাঁরা সিলেট কারাগারে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিষ্কৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করে আসছিলেন। বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
প্রভাতের পাতা ডেস্ক : 















