বাংলাদেশের আবহাওয়া মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত। তবে দিন দিন অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।
বিশ্বের অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের জলবায়ু কিছু ভিন্নতা বহন করে। তবে জনসংখ্যার চাপ, নগরায়ণ ও বনভূমি ধ্বংস আমাদের জলবায়ুকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বাংলাদেশ বনাঞ্চলের পরিমাণ ও প্রয়োজনীয়তা
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য দেশের অন্তত ২৫% বনাঞ্চল থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি হিসাব অনুযায়ী বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৭%, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তবে বাস্তবতা আরও ভয়াবহ—অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রকৃত বনভূমি ১০% বা তারও কম।
অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ দেশের সঙ্গে তুলনা
বিশ্বের অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ দেশের বনভূমির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ থেকে বেশি—
| দেশ | জনসংখ্যা (কোটি) | বনভূমির পরিমাণ (%) |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ | ১৭ কোটি | ~১০-১৭% |
| ভারত | ১৪২ কোটি | ~২৪% |
| চীন | ১৪১ কোটি | ~২৩% |
| ইন্দোনেশিয়া | ২৮ কোটি | ~৫০% |
| ফিলিপাইন | ১১ কোটি | ~২৩% |
উপরের তালিকা থেকে বোঝা যায়, অন্য ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বনভূমি অনেক কম, যা জলবায়ুর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে পরিবেশগত প্রভাব
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, পর্যাপ্ত বনভূমির অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যু এবং পানিবাহিত রোগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
WHO-র মতে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিবেশগত সমস্যাগুলো—
- বায়ুদূষণ: ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর বাতাসের গুণমান মারাত্মক খারাপ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি: ২০৫০ সালের মধ্যে গড় তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ: ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার তীব্রতা বেড়েছে, যা বাস্তুসংস্থানের ওপর প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বনভূমির পরিমাণ কমপক্ষে ২৫% পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। জলবায়ুর পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ, বনভূমি সংরক্ষণ, এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত বিপর্যয় আরও বাড়তে থাকবে।
মোহাম্মদ নাসিম 















