ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দুর্নীতি মামলায় বিমানের পাঁচ কর্মকর্তা কারাগারে, নয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • মোহাম্মদ নাসিম
  • আপডেট সময় ১০:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১,১৬১ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক পাঁচ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আরও নয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন:

  • বিমানের সাবেক ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল আলম সিদ্দিক
  • সার্ভিসেস অ্যান্ড অডিটের সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ
  • স্ট্রাকচারের প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার শরীফ রুহুল কুদ্দুস
  • সাবেক ডেপুটি ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহজাহান
  • সাবেক ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহিদ হোসেন

এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বিমানের সাবেক ফ্লাইট ক্যাপ্টেন (অপারেশন) ইশরাত আহমেদসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে।

অভিযোগের বিবরণ: মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের এবং অন্যদের সুবিধা দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তারা মিশর থেকে দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া এবং পরে সেগুলো ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশ্রয় নেন। এতে বিমানের মোট ১,১৬১ কোটি টাকা লোকসান হয়।

২০১৪ সালে ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের জন্য দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান। এক বছরের মধ্যেই উড়োজাহাজ দুটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আরও দুটি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হয়, যা পরবর্তীতে নষ্ট হয়ে যায়।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি: বিচারক বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কেভিন জন স্টিল, সাবেক ফ্লাইট ক্যাপ্টেন (অপারেশন) ইশরাত আহমেদসহ নয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অভিযোগপত্রে তাদের পলাতক দেখানো হয়েছে।

দুদকের তদন্ত: দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক গত ২০ মে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে, দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে ১৪ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়।

আদালতের সিদ্ধান্ত: আজকের শুনানিতে আত্মসমর্পণ করা পাঁচ আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Md. Nasim

শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই নির্ধারণ করবে AI যুগের চাকরির ভবিষ্যৎ।

দুর্নীতি মামলায় বিমানের পাঁচ কর্মকর্তা কারাগারে, নয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় ১০:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১,১৬১ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক পাঁচ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আরও নয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন:

  • বিমানের সাবেক ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল আলম সিদ্দিক
  • সার্ভিসেস অ্যান্ড অডিটের সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ
  • স্ট্রাকচারের প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার শরীফ রুহুল কুদ্দুস
  • সাবেক ডেপুটি ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহজাহান
  • সাবেক ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহিদ হোসেন

এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বিমানের সাবেক ফ্লাইট ক্যাপ্টেন (অপারেশন) ইশরাত আহমেদসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে।

অভিযোগের বিবরণ: মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের এবং অন্যদের সুবিধা দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তারা মিশর থেকে দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া এবং পরে সেগুলো ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশ্রয় নেন। এতে বিমানের মোট ১,১৬১ কোটি টাকা লোকসান হয়।

২০১৪ সালে ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের জন্য দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান। এক বছরের মধ্যেই উড়োজাহাজ দুটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আরও দুটি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হয়, যা পরবর্তীতে নষ্ট হয়ে যায়।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি: বিচারক বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কেভিন জন স্টিল, সাবেক ফ্লাইট ক্যাপ্টেন (অপারেশন) ইশরাত আহমেদসহ নয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অভিযোগপত্রে তাদের পলাতক দেখানো হয়েছে।

দুদকের তদন্ত: দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক গত ২০ মে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে, দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে ১৪ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়।

আদালতের সিদ্ধান্ত: আজকের শুনানিতে আত্মসমর্পণ করা পাঁচ আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।