ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি বেকার তৈরির কারখানা? বাংলাদেশের ৩০-৪০% প্রতিষ্ঠান ভুল আইটি ব্যবস্থাপনায় ও সাইবার ঝুঁকিতে নিমজ্জিত! শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই নির্ধারণ করবে AI যুগের চাকরির ভবিষ্যৎ। সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ শনির আখড়ায় মশা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অবহেলা অব্যাহত। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঢাকায় আরও ২০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকটের আশঙ্কা মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা শাহাদাত বরণ করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
চকচকে ক্যাম্পাস নয়, দরকার দক্ষ শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি বেকার তৈরির কারখানা?

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটানোর মহান উদ্দেশ্যে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সীমিত আসনের কারণে লাখো শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে এই খাত। কিন্তু তিন দশক পর আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি সত্যিই আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছে, নাকি কেবল ব্যয়বহুল সনদ প্রদান করছে?

প্রশ্নটি অস্বস্তিকর হলেও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থাকে “স্কিল মিসম্যাচ” বা দক্ষতার অমিল হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের চেয়ে ক্যাম্পাসের বাহ্যিক সৌন্দর্য, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান, বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং র‍্যাংকিং পাওয়া নিয়ে বেশি বিনিয়োগের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অথচ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি শুধু ভবন, খেলার মাঠ, পার্ক বা বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, প্রকৃত শক্তি তার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর দক্ষতা।

আমার ২৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে— দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করতে গিয়ে— দেখেছি, কিছু প্রতিষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষক থাকলেও অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের সংখ্যা হাতে গোনা। এতে নবীন শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়। অনভিজ্ঞ শিক্ষক কারিকুলাম উন্নয়ন, মেন্টরশিপ, শিল্পখাতের যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পথে বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে উচ্চ জিপিএ অর্জনই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়নের কঠোরতা কমে যায় বা একাডেমিক সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম এবং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একাডেমিক মান রক্ষা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক দায়িত্ব।

একজন শিক্ষার্থী চার বছরে টিউশন ফি হিসেবে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেন। আবাসন, যাতায়াত, বই, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে এই বিনিয়োগ ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকায় পৌঁছে যায়। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি আজীবনের সঞ্চয়। কিন্তু স্নাতক শেষে যদি সেই শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে অযোগ্য বিবেচিত হন, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু তিনি নন; ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার পরিবার, রাষ্ট্র এবং জাতীয় অর্থনীতি।

বর্তমান বাস্তবতায় অনেক প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞতার অভাবে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বের হলেও তাদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। এই বৈপরীত্যের মূল কারণগুলোর একটি হলো : বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের দুর্বল সংযোগ।

এখনই যে-সব সংস্কার প্রয়োজন।

১. শিক্ষক কাঠামো নির্ধারণে ন্যূনতম মানদণ্ড।

  • মোট শিক্ষকের অন্তত ১০ শতাংশ অধ্যাপক।
  • অন্তত ২০ শতাংশ সহযোগী অধ্যাপক।
  • অন্তত ৩০ শতাংশ সহকারী অধ্যাপক।

২. শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্তি।

দীর্ঘ শিল্প-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের Professor of Practice, Associate Professor of Practice এবং Assistant Professor of Practice পদে নিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে। বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে কেবল একাডেমিক ডিগ্রির চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

৩. প্রভাষক নিয়োগে শিল্প-অভিজ্ঞতা

নতুন প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভাল  সিজিপিএ নয়, অন্তত ৩–৫ বছরের শিল্প-অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে শ্রেণিকক্ষে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে।

৪. পদোন্নতিতে আন্তর্জাতিক পেশাগত সনদের মূল্যায়ন

AWS, Cisco, Microsoft, Red Hat, Google Cloud, Oracleসহ আন্তর্জাতিক পেশাগত সার্টিফিকেশনকে গবেষণার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

৫. পিএইচডির পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতার মূল্যায়ন।

শুধু পিএইচডি নয়, শিল্প-অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান এবং গবেষণার বাস্তব প্রভাব, সবকিছুকেই পদোন্নতির মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৬. কর্মসংস্থানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য Graduate Employment Rate, Internship Rate, Industry Partnership এবং Employer Satisfaction Index প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবেন।

শেষ কথা

সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একরকম নয়। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানের দুর্বল মান পুরো খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এখন প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক নিয়োগে বিনিয়োগ করা। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং ও সাফল্য নির্ধারিত হবে তার শিক্ষার্থীরা কতজন চাকরি পাচ্ছেন, কতজন উদ্যোক্তা হচ্ছেন, কতজন উদ্ভাবক তৈরি হচ্ছেন এবং কতটা মূল্য দেশের অর্থনীতিতে যোগ করছেন—সেই বাস্তব ফলাফলে।

লেখক :

অধ্যাপক ড. আবু সাইদ

দেশ-বিদেশে ২৪ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি বেকার তৈরির কারখানা?

চকচকে ক্যাম্পাস নয়, দরকার দক্ষ শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি বেকার তৈরির কারখানা?

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটানোর মহান উদ্দেশ্যে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সীমিত আসনের কারণে লাখো শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে এই খাত। কিন্তু তিন দশক পর আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি সত্যিই আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছে, নাকি কেবল ব্যয়বহুল সনদ প্রদান করছে?

প্রশ্নটি অস্বস্তিকর হলেও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থাকে “স্কিল মিসম্যাচ” বা দক্ষতার অমিল হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের চেয়ে ক্যাম্পাসের বাহ্যিক সৌন্দর্য, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান, বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং র‍্যাংকিং পাওয়া নিয়ে বেশি বিনিয়োগের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অথচ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি শুধু ভবন, খেলার মাঠ, পার্ক বা বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, প্রকৃত শক্তি তার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর দক্ষতা।

আমার ২৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে— দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করতে গিয়ে— দেখেছি, কিছু প্রতিষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষক থাকলেও অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের সংখ্যা হাতে গোনা। এতে নবীন শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়। অনভিজ্ঞ শিক্ষক কারিকুলাম উন্নয়ন, মেন্টরশিপ, শিল্পখাতের যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পথে বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে উচ্চ জিপিএ অর্জনই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়নের কঠোরতা কমে যায় বা একাডেমিক সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম এবং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একাডেমিক মান রক্ষা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক দায়িত্ব।

একজন শিক্ষার্থী চার বছরে টিউশন ফি হিসেবে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেন। আবাসন, যাতায়াত, বই, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে এই বিনিয়োগ ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকায় পৌঁছে যায়। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি আজীবনের সঞ্চয়। কিন্তু স্নাতক শেষে যদি সেই শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে অযোগ্য বিবেচিত হন, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু তিনি নন; ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার পরিবার, রাষ্ট্র এবং জাতীয় অর্থনীতি।

বর্তমান বাস্তবতায় অনেক প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞতার অভাবে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বের হলেও তাদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। এই বৈপরীত্যের মূল কারণগুলোর একটি হলো : বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের দুর্বল সংযোগ।

এখনই যে-সব সংস্কার প্রয়োজন।

১. শিক্ষক কাঠামো নির্ধারণে ন্যূনতম মানদণ্ড।

  • মোট শিক্ষকের অন্তত ১০ শতাংশ অধ্যাপক।
  • অন্তত ২০ শতাংশ সহযোগী অধ্যাপক।
  • অন্তত ৩০ শতাংশ সহকারী অধ্যাপক।

২. শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্তি।

দীর্ঘ শিল্প-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের Professor of Practice, Associate Professor of Practice এবং Assistant Professor of Practice পদে নিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে। বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে কেবল একাডেমিক ডিগ্রির চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

৩. প্রভাষক নিয়োগে শিল্প-অভিজ্ঞতা

নতুন প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভাল  সিজিপিএ নয়, অন্তত ৩–৫ বছরের শিল্প-অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে শ্রেণিকক্ষে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে।

৪. পদোন্নতিতে আন্তর্জাতিক পেশাগত সনদের মূল্যায়ন

AWS, Cisco, Microsoft, Red Hat, Google Cloud, Oracleসহ আন্তর্জাতিক পেশাগত সার্টিফিকেশনকে গবেষণার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

৫. পিএইচডির পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতার মূল্যায়ন।

শুধু পিএইচডি নয়, শিল্প-অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান এবং গবেষণার বাস্তব প্রভাব, সবকিছুকেই পদোন্নতির মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৬. কর্মসংস্থানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য Graduate Employment Rate, Internship Rate, Industry Partnership এবং Employer Satisfaction Index প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবেন।

শেষ কথা

সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একরকম নয়। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানের দুর্বল মান পুরো খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এখন প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক নিয়োগে বিনিয়োগ করা। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং ও সাফল্য নির্ধারিত হবে তার শিক্ষার্থীরা কতজন চাকরি পাচ্ছেন, কতজন উদ্যোক্তা হচ্ছেন, কতজন উদ্ভাবক তৈরি হচ্ছেন এবং কতটা মূল্য দেশের অর্থনীতিতে যোগ করছেন—সেই বাস্তব ফলাফলে।

লেখক :

অধ্যাপক ড. আবু সাইদ

দেশ-বিদেশে ২৪ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা।