গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন বা পশ্চিমা সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডসমূহের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ অন্তত এক ডজনের বেশি এলাকায় কেএফসি, বাটা, পিৎজা হাটসহ আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ব্র্যান্ডের বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
এই ঘটনার পর ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কিছু দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে, কিছু দোকান থেকে পণ্য লুট করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সময়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটলো যখন ঢাকায় চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের শতাধিক বিনিয়োগকারী অংশ নিচ্ছেন। এ ধরনের সহিংসতা বিনিয়োগকারীদের মনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যে একটি নেতিবাচক বার্তা পেয়েছেন, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এর চেয়েও দুঃখজনক বিষয় হলো, দেশের বাজার ব্যবস্থাকে আমরা নিরাপত্তা দিতে পারছি না। এটি খুবই ভীতিকর।”
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, “যারা এ ধরনের হামলা চালিয়েছে, তারা দেশের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার প্রকৃত শত্রু। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের ব্যর্থতাও দায়ী বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে যেভাবে মব অ্যাটাক বা সংঘবদ্ধভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে, তার বিচার না হওয়াই আজকের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এর দায় এড়াতে পারে না।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে হলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন কঠিন হয়ে উঠবে।
Md Nasim 










