ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাস দুর্ঘটনায় মহেশপুরে আহত ৫ মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত বিএনপির সুযোগ, সম্ভাবনা ও নেতৃত্বের ব্যর্থতা সিলেট-চট্টগ্রামে কেএফসি-বাটা-পিৎজা হাটে হামলা ও লুটপাট: বিনিয়োগ সম্মেলনের মাঝেই উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা ঈদুল ফিতরে রাজধানীতে ঐতিহ্যের ঝলক, আলোচনায় নাসিরুদ্দিন হোজ্জার পাপেট বাংলাদেশের সংখ্যালঘু প্রসঙ্গে যা বলল মার্কিন প্রতিবেদন পারিবারিক বিরোধে নিহত জাফর আলী: অভিযুক্ত খালাতো ভাই আব্বাস আলী মহেশপুরে জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ মার্কিন বাজারে ঝড় তুলেছে চীনা এআই কোম্পানি ডিপসিক জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কি বলছে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি?

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ: পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নতুন সম্ভাবনা

  • Md Nasim
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল ঘটার পর গত পাঁচ মাসে প্রতিবেশী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে নাটকীয় অবনতি ঘটেছে। তবে, ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের ইঙ্গিত থেকে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন নতুন বছরে এই সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিগত কয়েক মাসে ভারত ও বাংলাদেশের সরকার একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখায়নি, কিন্তু সম্প্রতি দু’পক্ষের মধ্যে কিছু লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে, যা সম্পর্কের পুনরুজ্জীবনের দিকে ইঙ্গিত দেয়। বিশেষত, ভারতের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই অনুভব করছে যে তাদের মধ্যে কূটনৈতিক, স্ট্র্যাটেজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। তবে, ভারত এই সম্পর্কের পুনরুদ্ধার শর্তসাপেক্ষে করবে। বাংলাদেশের হিন্দু ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া, সামরিক ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাতে পারে। যদিও এটি স্পষ্ট যে, সম্পর্কের উন্নতি ভারতের কিছু শর্ত পূরণের উপর নির্ভর করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া, ভারতকে আশাবাদী করে তুলেছে। বিশেষত, বাংলাদেশ ভারত-বিরোধী রেটোরিক থেকে সরে আসার লক্ষণ দেখাচ্ছে, যা সুস্থ সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ভালো সূচনা হতে পারে।

অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে, দু’দেশের সম্পর্ক এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সরকারী হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। তবে, রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে ভারত সম্পর্কের আরও উন্নতি চায়, যা আগামী দিনে আরও কার্যকর হতে পারে।

এখন দেখার বিষয় হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি সম্পর্কে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বাস্তবায়িত হয়, এবং আগামী বছরে কীভাবে এই সম্পর্ক পুনর্গঠন হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Md. Nasim

জনপ্রিয় সংবাদ

বাস দুর্ঘটনায় মহেশপুরে আহত ৫

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ: পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় ১১:৫৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল ঘটার পর গত পাঁচ মাসে প্রতিবেশী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে নাটকীয় অবনতি ঘটেছে। তবে, ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের ইঙ্গিত থেকে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন নতুন বছরে এই সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিগত কয়েক মাসে ভারত ও বাংলাদেশের সরকার একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখায়নি, কিন্তু সম্প্রতি দু’পক্ষের মধ্যে কিছু লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে, যা সম্পর্কের পুনরুজ্জীবনের দিকে ইঙ্গিত দেয়। বিশেষত, ভারতের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই অনুভব করছে যে তাদের মধ্যে কূটনৈতিক, স্ট্র্যাটেজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। তবে, ভারত এই সম্পর্কের পুনরুদ্ধার শর্তসাপেক্ষে করবে। বাংলাদেশের হিন্দু ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া, সামরিক ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাতে পারে। যদিও এটি স্পষ্ট যে, সম্পর্কের উন্নতি ভারতের কিছু শর্ত পূরণের উপর নির্ভর করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া, ভারতকে আশাবাদী করে তুলেছে। বিশেষত, বাংলাদেশ ভারত-বিরোধী রেটোরিক থেকে সরে আসার লক্ষণ দেখাচ্ছে, যা সুস্থ সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ভালো সূচনা হতে পারে।

অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে, দু’দেশের সম্পর্ক এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সরকারী হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। তবে, রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে ভারত সম্পর্কের আরও উন্নতি চায়, যা আগামী দিনে আরও কার্যকর হতে পারে।

এখন দেখার বিষয় হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি সম্পর্কে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বাস্তবায়িত হয়, এবং আগামী বছরে কীভাবে এই সম্পর্ক পুনর্গঠন হয়।