বাংলাদেশে গত বছরের জুলাই-অগাস্ট মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রায় ১৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই রাইফেল ও শটগানের গুলিতে মারা গেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের নির্দেশেই বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহিংসতার সময় আরও কয়েক হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন। এছাড়া, পুলিশ ও র্যাবের তথ্য অনুসারে, ওই দুই মাসে ১১ হাজার ৭০০ জনকে আটক করা হয়েছিল।
নিহতদের মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ শিশু ছিল বলে জানিয়েছে ওএইচসিএইচআর। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা শিশুদের টার্গেট কিলিং ও পঙ্গু করার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
ওএইচসিএইচআর-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পদ্ধতিগত ও সংগঠিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশ হয়ে উঠেছিল।
এই পরিস্থিতিতে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর আরও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। একই সঙ্গে, সংস্থাটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
এছাড়া, প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্ত করার পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর কর্মপরিধি নির্দিষ্ট করার সুপারিশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সময় দুপুরে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে ওএইচসিএইচআর সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে বলে জানানো হয়।
মোহাম্মদ নাসিম 










