মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও ইসলামি বিশ্বের এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) ইরানের বার্তা সংস্থা Tasnim News Agency ও Fars News Agency-এর বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এ তথ্য প্রকাশ করে।
এই খবরে ইরানজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ৮৬ বছর বয়সী খামেনি ছিলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতীক। ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র মৃত্যুর পর তিনি দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রক এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচিত হলেও তাদের ওপর চূড়ান্ত তদারকি থাকে সর্বোচ্চ নেতার। ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে নেতা নির্বাচন করে।
খামেনির নেতৃত্বে ইরান আঞ্চলিক রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে। তার ক্ষমতার বড় ভিত্তি ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিরাপত্তা কাঠামোর আনুগত্য তার অবস্থানকে দীর্ঘদিন দৃঢ় করে রেখেছিল।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেও খামেনি বারবার বলেছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ।
তার মৃত্যুর খবর মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসলামি বিশ্বের অনেকের কাছে তিনি ছিলেন প্রতিরোধের প্রতীক, আবার অনেকের কাছে বিতর্কিত এক শাসক। তবে নিঃসন্দেহে, তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটাল।
Md Nasim 








