ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতীয় সীমান্তে নষ্ট হচ্ছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ, বিক্রি নেমে কেজিতে ২ রুপি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শুরু ‘ডিআইইউ জব উৎসব ২০২৫’, অংশ নিচ্ছে ১৫০’র বেশি প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানি–প্রথম আলো ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রাণবন্ত ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বজন হারানোর বেদনায় সংবাদ সম্মেলনে আবেগে ভেঙে পড়েছিলেন খালেদা জিয়া ক্ষমতা বা পদলাভের লক্ষ্যে কারও সঙ্গে কোনো ধরনের আপস হবে না: নাহিদ ইসলাম ঢাকায় বারবার ভূমিকম্প উদ্বেগ–উৎকণ্ঠায় নগরবাসী আমজনতার দলের নিবন্ধন যাচাইয়ের আহ্বান ইশরাক হোসেনের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় বিএনপির ফাঁকা ৬৩ আসন, জোটের প্রার্থীদের নিয়েই জল্পনা ফেনী-১, দিনাজপুর-৩ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে লড়বেন খালেদা জিয়া বিএনপির ২৩৭ প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, তিন আসনে খালেদা জিয়া, প্রথমবার নির্বাচনে তারেক রহমান

ভারতীয় সীমান্তে নষ্ট হচ্ছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ, বিক্রি নেমে কেজিতে ২ রুপি

বাংলাদেশের কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এর প্রভাবে বড় সংকটে পড়েছেন ভারতীয় রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে সীমান্তজুড়ে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে যেতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে পানির দরে অর্থাৎ মাত্র ২ রুপি কেজিতে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন—যা উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ কম।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত ঘুরে দেখা গেছে—৫০ কেজির একটি বস্তা পেঁয়াজ মিলছে মাত্র ১০০ রুপিতে। অথচ নাসিক থেকে কেজিপ্রতি ১৬ রুপি দরে এসব পেঁয়াজ কেনার পর পরিবহন, লোড–আনলোডসহ সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে মোট খরচ দাঁড়ায় ২২ রুপি। সেই পেঁয়াজ এখন প্রায় বিনামূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনও ২০–২২ রুপি, তবে সীমান্তে বাংলাদেশি ক্রেতা না থাকায় মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরত্বেই এক বস্তা পেঁয়াজের দাম নেমে এসেছে ২ রুপিতে। তাদের দাবি, বাংলাদেশ হঠাৎ ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) সীমিত করায় পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

ওই সীমান্তসহ ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল ও হিলি এলাকায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ ছিল, যার বাজারমূল্য কোটি কোটি রুপি। বাংলাদেশ থেকে চাহিদা কমে যাওয়ায় গুদাম ও ট্রাকে স্তুপ করে রাখা সেই পেঁয়াজ এখন নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতি কমাতে শতাধিক শ্রমিক দিনরাত পচা পেঁয়াজ আলাদা করে ভালো পেঁয়াজ লোকাল মার্কেটে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

সাধারণত মাহাদিপুর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ৩০–৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সেই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আগেই প্রায় ২০ হাজার টন পেঁয়াজ এখানেই মজুদ করেছিলেন—যার কেনা দাম ছিল কেজিতে ২২ রুপি। বাংলাদেশে রপ্তানি করতে পারলে প্রতিকেজি ৩০–৩২ রুপি পাওয়া যেত—লাভ হতো ৮–১০ রুপি করে। কিন্তু আমদানি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন কেজিতে ১৫–২০ রুপি পর্যন্ত ক্ষতি গুনছেন তারা।

মালদহের ব্যবসায়ী সাজিরুল শেখ বলেন, ‘নাসিক-ইন্দোর থেকে বড় ট্রাকে ৫-৭০ ট্রাক পেঁয়াজ এনে রেখেছিলাম। এখন পচে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে ২, ৬, ৮ বা ১০ রুপিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

আরেক রপ্তানিকারক জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে মাসে ৩০–৩৫ ট্রাক পাঠাতাম বাংলাদেশে। এখন রপ্তানি বন্ধ। তাই শতাধিক শ্রমিক দিয়ে পেঁয়াজ বাছাই করছি। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে।’

ব্যবসায়ীর মতো ভোক্তারাও পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট। স্থানীয় ক্রেতা খাইরুল হক বলেন, ‘২ রুপি কেজিতে পেঁয়াজ কিনছি ঠিকই; কিন্তু এতে আনন্দ নেই। সরকারের উদাসীনতায় কৃষক–ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। ভালোমানের পেঁয়াজও ৮–১০ রুপিতে মিলছে, অথচ বাজারদর ২০–৩০ রুপি।’

বাংলাদেশে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৯০–১০০ টাকা হওয়ায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ ও অপ্রস্তুত অবস্থায় এসেছে। তাদের দাবি, দুই দেশের সরকার আলোচনায় না বসলে সীমান্তে আরও পণ্য পচে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান বাড়তেই থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Khan Md. Shahrear Shafin

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় সীমান্তে নষ্ট হচ্ছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ, বিক্রি নেমে কেজিতে ২ রুপি

ভারতীয় সীমান্তে নষ্ট হচ্ছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ, বিক্রি নেমে কেজিতে ২ রুপি

আপডেট সময় ০৮:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এর প্রভাবে বড় সংকটে পড়েছেন ভারতীয় রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে সীমান্তজুড়ে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে যেতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে পানির দরে অর্থাৎ মাত্র ২ রুপি কেজিতে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন—যা উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ কম।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত ঘুরে দেখা গেছে—৫০ কেজির একটি বস্তা পেঁয়াজ মিলছে মাত্র ১০০ রুপিতে। অথচ নাসিক থেকে কেজিপ্রতি ১৬ রুপি দরে এসব পেঁয়াজ কেনার পর পরিবহন, লোড–আনলোডসহ সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে মোট খরচ দাঁড়ায় ২২ রুপি। সেই পেঁয়াজ এখন প্রায় বিনামূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনও ২০–২২ রুপি, তবে সীমান্তে বাংলাদেশি ক্রেতা না থাকায় মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরত্বেই এক বস্তা পেঁয়াজের দাম নেমে এসেছে ২ রুপিতে। তাদের দাবি, বাংলাদেশ হঠাৎ ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) সীমিত করায় পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

ওই সীমান্তসহ ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল ও হিলি এলাকায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ ছিল, যার বাজারমূল্য কোটি কোটি রুপি। বাংলাদেশ থেকে চাহিদা কমে যাওয়ায় গুদাম ও ট্রাকে স্তুপ করে রাখা সেই পেঁয়াজ এখন নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতি কমাতে শতাধিক শ্রমিক দিনরাত পচা পেঁয়াজ আলাদা করে ভালো পেঁয়াজ লোকাল মার্কেটে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

সাধারণত মাহাদিপুর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ৩০–৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সেই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আগেই প্রায় ২০ হাজার টন পেঁয়াজ এখানেই মজুদ করেছিলেন—যার কেনা দাম ছিল কেজিতে ২২ রুপি। বাংলাদেশে রপ্তানি করতে পারলে প্রতিকেজি ৩০–৩২ রুপি পাওয়া যেত—লাভ হতো ৮–১০ রুপি করে। কিন্তু আমদানি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন কেজিতে ১৫–২০ রুপি পর্যন্ত ক্ষতি গুনছেন তারা।

মালদহের ব্যবসায়ী সাজিরুল শেখ বলেন, ‘নাসিক-ইন্দোর থেকে বড় ট্রাকে ৫-৭০ ট্রাক পেঁয়াজ এনে রেখেছিলাম। এখন পচে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে ২, ৬, ৮ বা ১০ রুপিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

আরেক রপ্তানিকারক জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে মাসে ৩০–৩৫ ট্রাক পাঠাতাম বাংলাদেশে। এখন রপ্তানি বন্ধ। তাই শতাধিক শ্রমিক দিয়ে পেঁয়াজ বাছাই করছি। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে।’

ব্যবসায়ীর মতো ভোক্তারাও পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট। স্থানীয় ক্রেতা খাইরুল হক বলেন, ‘২ রুপি কেজিতে পেঁয়াজ কিনছি ঠিকই; কিন্তু এতে আনন্দ নেই। সরকারের উদাসীনতায় কৃষক–ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। ভালোমানের পেঁয়াজও ৮–১০ রুপিতে মিলছে, অথচ বাজারদর ২০–৩০ রুপি।’

বাংলাদেশে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৯০–১০০ টাকা হওয়ায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ ও অপ্রস্তুত অবস্থায় এসেছে। তাদের দাবি, দুই দেশের সরকার আলোচনায় না বসলে সীমান্তে আরও পণ্য পচে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান বাড়তেই থাকবে।