স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর একেবারে গৃহবধূ হিসেবে রাজনীতির জগতে পা রাখা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পৌঁছান বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। দুই মেয়াদে প্রায় এক দশক তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার এই দীর্ঘ অধ্যায়ের পর দুর্নীতির মামলার রায়ের মুখোমুখি হয়ে নতুন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
রায়ের আগের দিন ঢাকার গুলশানে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জীবনের একের পর এক ব্যক্তিগত বেদনার কথা তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তার।
তিনি বলেন,
“আমি কম বয়সে স্বামী হারিয়েছি। দেশের জন্য জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছেন। কারাগারে থাকতে আমি আমার মাকে (তৈয়বা মজুমদার) হারিয়েছি। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আমি একটি সন্তান (ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকা) হারিয়েছি।”
এই পর্যায়ে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কিছুক্ষণ থেমে গিয়ে তিনি আরও বলেন,
“আরেকটি সন্তান নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে দূর দেশে এখনও চিকিৎসাধীন।”
সংবাদ সম্মেলনে তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের অনেকেই নীরবে সেই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর আকস্মিকভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে এসে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্রে পরিণত হন। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন সময় যেমন তাকে রাজনৈতিক সাফল্যের মুখ দেখতে হয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনে একের পর এক শোক তাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে।
মায়ের মৃত্যু, ছোট ছেলের আকস্মিক প্রয়াণ এবং বড় ছেলের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে সেই সংবাদ সম্মেলনে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে এক মায়ের গভীর বেদনা। রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে সেদিন বেশি গুরুত্ব পায় তার ব্যক্তিগত কষ্টের স্বীকারোক্তি।
সময়ের ব্যবধানে সেই আবেগঘন মুহূর্ত এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তবে স্বজন হারানোর সেই বেদনার কথা আজও মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেও ব্যক্তিগত শোক কাউকে ছাড় দেয় না। রাজনীতির কঠোর মঞ্চের আড়ালে থাকা এক নারীর নিরব আর্তনাদেরই এক করুণ দলিল হয়ে রয়ে গেছে খালেদা জিয়ার সেদিনের বক্তব্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









