শুক্রবার ২১ নভেম্বর ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০ জনের প্রাণহানি ও অন্তত ৪৬০ জন আহত হওয়ার পরদিন শনিবার রাজধানীতে আরও তিন দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার দুপুর ও সন্ধ্যার কম্পনগুলোতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি না হলেও নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
শনিবার সকালে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সন্ধ্যায় এক সেকেন্ডের ব্যবধানে হওয়া দু’টি ভূকম্পনকে আফটারশক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হালকা ভূকম্পন স্বাভাবিক, তাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন।
পরপর চার দফা ভূমিকম্পে পুরান ঢাকা ও বংশালের মানুষ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছে। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জরুরি সেল গঠন করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ০২৫৮৮১১৬৫১ নম্বরে কল করলে দ্রুত সাড়া পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও মাগুরার জেলা প্রশাসনও সহায়তা দিচ্ছে।
ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজউক পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেছে। আরমানিটোলা, মুগদা ও বাড্ডার আলাতুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বেশ কিছু স্থাপনা পরীক্ষা করা হয়েছে। দৃশ্যমান ফাটল থাকা ভবনের নকশা সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তার জন্য আশপাশের দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “এই ভূমিকম্প আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ বিপর্যয় ঠেকাতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খোলা মাঠ ব্যবস্থা, নির্মাণ বিধিমালা মেনে ভবন নির্মাণ এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের ভূমিকম্পে ঢাকায় ৪ জনের মৃত্যু ও ৫৯ জন আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু ও ১৮ জন আহত, নরসিংদীতে ৫ জনের মৃত্যু ও ১১০ জন আহত, গাজীপুরে আহত ২৫২ জন এবং মাগুরায় আহত ২২ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক 









